বিশেষ সাক্ষাত্কার
ক্ষমতা ও ন্যায়বিচার মানব সমাজের অন্যতম মৌলিক ও গভীর দৃষ্টিভঙ্গি, যা মানুষের জীবন ও সমগ্র সমাজের কাঠামো নির্ধারণ করে। যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করার সময় এই দুইটি বিষয়কে বিবেচনা করা অপরিহার্য। ২৮ সফরের ঘটনাগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের বা ঘটনার প্রতিফলন নয়, বরং এতে ক্ষমতার ব্যবহারের সীমা, ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা এবং সামাজিক বাস্তবতার মর্মস্পর্শী বার্তা নিহিত রয়েছে। এই সফরের ঘটনাগুলো আমাদের শেখায় যে ক্ষমতা কিভাবে সঠিক দিকনির্দেশনা ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে রূপান্তরিত হতে পারে, অথবা অসঙ্গতি ও অন্যায়ের মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি ও অবিচার সৃষ্টি করতে পারে। তাই, ২৮ সফরের ঘটনাগুলো আমাদের ন্যায়বিচারের গুরুত্ব এবং ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগের মূল্যবান শিক্ষা দেয়।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
২৮ সফর—যেখানে নবী (সা.) এর ওফাত এবং ইমাম হাসান (আ.) এর শাহাদাতের স্মরণ হয়—এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমরা ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কি শিক্ষা নিতে পারি?
মাওলানা তাফাজ্জুল: ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি। ধন্যবাদ, মাজিদ ভাই, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য। ২৮ সফরের ঘটনাগুলো আমাদের জন্য গভীর শিক্ষা বয়ে আনে, বিশেষ করে ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের সম্পর্ক নিয়ে। নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.)-এর জীবন ও ঘটনাবলী থেকে আমরা বুঝতে পারি যে ক্ষমতা কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হতে হয়।
মাওলানা, ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে এই ঘটনাগুলো কী বার্তা দেয়?
মাওলানা তাফাজ্জুল: ক্ষমতার অপব্যবহার সর্বদা বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নবী (সা.) এর মৃত্যুর পর যেসব অবিচার ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা আমাদের শিখায় যে সৎ ও ন্যায়বান নেতৃত্বের অভাবে সমাজ কত দ্রুত বিভক্ত হতে পারে। ইমাম হাসান (আ.) যখন শান্তির পথ বেছে নেন, তিনি দেখিয়েছেন যে ক্ষমতা ধরে রাখাটাই সবকিছু নয়, বরং ন্যায় ও শান্তির জন্য আত্মত্যাগ করা মহান।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বার্তাগুলো আমাদের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক?
মাওলানা তাফাজ্জুল: খুবই প্রাসঙ্গিক। আজকের দিনে আমরা দেখি রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য অনেকেই ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থকে পিছনে ফেলে দিচ্ছেন। ২৮ সফরের শিক্ষা হলো—সত্যিকারের নেতৃত্বের পরিচয় হলো ক্ষমতা ব্যবহারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
তাহলে কি বলতে পারেন, আজকের সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের করণীয় কী?
মাওলানা তাফাজ্জুল: আমাদের উচিত মহান ব্যক্তিদের মতো নেতৃত্বের আদর্শ গ্রহণ করা। জনগণ সচেতন হতে হবে, অবিচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে, আর নেতৃত্বের কাছে তাদের দাবি রাখতে হবে ন্যায় ও সৎ ব্যবস্থাপনার। এ ছাড়া শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
শেষমেষ তরুণ প্রজন্মের জন্য আপনার কোন বার্তা থাকবে?
মাওলানা তাফাজ্জুল: তরুণেরা দেশের ভবিষ্যৎ। আমি তাদের বলব, ২৮ সফরের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের চরিত্র গড়ে তুলুন, ন্যায় ও সততার পথে চলুন। ক্ষমতার মোহে পড়ে অন্যায়ের অংশী হবেন না, বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসী হোন।
আলহামদুলিল্লাহ। ধন্যবাদ মাওলানা তাফাজ্জুল সাহেব, আপনার মূল্যবান সময় ও আলোকিত বক্তব্যের জন্য। আল্লাহ আপনাকে সবার জন্য প্রেরণার উৎস করে দিন।
মাওলানা তাফাজ্জুল: আমীন। আপনাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাত্কার গ্রহণ: মাজিদুল ইসলাম শাহ
আপনার কমেন্ট